কোন মোবাইল সবচেয়ে ভালো ২০২১

বর্তমানে বিশ্বে অসংখ্য ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন রয়েছে, তবে অনেকেরই এটা জানে না যে কোন মোবাইল সবচেয়ে ভালো ২০২১ সালে আমাদের কোন স্মার্টফোন গুলো ব্যবহার করা উচিত। কারণ মোবাইল ফোন সময়ের সাথে উন্নত করা হয়, আবার অনেক সময় কিছু মোবাইল ফোন কোম্পানি পিছিয়ে পড়ে বিশেষ করে তাদের প্রোডাক্ট এর মান উন্নত না হওয়ার কারণ।

আবার কিছু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে কিছু মোবাইল কোম্পানি একসময় মার্কেটের টপ ছিল, কিন্তু অন্য কোন মোবাইল কোম্পানি তার থেকেও ভালো সুযোগ-সুবিধা এবং বেশি ফিচার যুক্ত মোবাইল নিয়ে মার্কেটে এসেছে। স্বাভাবিক ভাবেই তখন মানুষ নতুন মোবাইল কোম্পানির দেয়া বেশি সুযোগ সুবিধা যুক্ত ব্যবহার করতে শুরু করবে।

কোন মোবাইল সবচেয়ে ভালো


এটা স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় যে সময়ের সাথে সাথে মোবাইল কোম্পানিগুলো তাদের বিভিন্ন রকম পরিবর্তন আনে অনেকেই উন্নত করে আবার অনেকে একরকম অবস্থায় থাকার কারণে পিছিয়ে পড়ে। আমাদের জানা প্রয়োজন বর্তমান সময়ে অর্থাৎ ২০২১ সালে কোন মোবাইল সবচেয়ে ভালো। অনেকেই ভালো মোবাইল সম্পর্কে জানে কিন্তু কম বাজেটের ভিতর কোন মোবাইল সবচেয়ে ভালো সেটা জানেনা।

কারণ ভালো মোবাইলের ব্র্যান্ড বা কোন মোবাইল এর মডেল গুলো ভালো সেটা বোঝে, কিন্তু অনেক সময় সেটা আমাদের বাজেটের আয়ত্তে না থাকলে কেনা সম্ভব হয়না। এজন্য আমাদের এমন কিছু মোবাইল সিলেক্ট করতে হবে সেগুলো আবার প্রাইস আমাদের আয়ত্বের মধ্যে।

ভালো মোবাইল এর বৈশিষ্ট্য কি

এটা অনেকেরই প্রশ্ন যে ভলো মোবাইল বলতে কী বোঝায় অথবা কি কি বৈশিষ্ট্য থাকলে একটি মোবাইল কে ভালো বলা যায়। আজ আমরা সেটাই জানতে আপনি এরপর থেকে মোবাইল কেনার সময় আপনার বাজেটের ভিতরে কোন ফোনটি সবচেয়ে ভালো হবে সেটা নিজেই বুঝতে পারেন।

মোবাইল চেনার জন্য ভালো মোবাইল এর বৈশিষ্ট্য তোমার জন্য প্রথমে আমরা কিছু কমন বিষয় উল্লেখ করব যেমন: র্যাম(Ram) রম(Rom) ব্যাটারি ইত্যাদি। এরপরে আমরা একটু আনকমন বিষয় গুলো জানব, আপনি বুঝতে পারেন যে র্যাম(Ram) রম(Rom) ব্যাটারি একটু বেশি বেশি দিয়ে আপনার ক্রয় করা ফোনটিতে কোন গুরুত্বপূর্ণ ফিচার গুলো কম দিচ্ছে যার ফলে আপনার ফোনের কনফিগারেশন বেশি থাকা সত্ত্বেও আপনি তুলনামূলক ভালো সার্ভিস পাচ্ছেন না।


প্রতিনিয়ত মানুষ এসব বিষয়ে যতই জানতে শুরু করেছে, কিছু কিছু মোবাইল কোম্পানি মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনিক ব্যবহার করছে এবং এমন কিছু ফিচার আপনাকে কম দিচ্ছে যার ফলে আপনার ব্যবহার করা মোবাইল যতটা পারফর্ম করার কথা ততটা করছে না।

উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি 6 জিবি Ram থাকে কিন্তু প্রফেসর হিসেবে যদি দেয়া হয় Snapdragon এর সবচেয়ে কম শক্তিশালী এবং নরমাল প্রসেসর। আপনার মোবাইলটি একটি অন্য 6 জিবি Ram এর ফোন যেটাতে লেটেস্ট এবং একটি শক্তিশালী প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে সেটার মত চলবে। এর উত্তর হচ্ছে: কখনোই না, আপনার ফোন 6 জিবি Ram এর পারফর্ম তো দূরের কথা 4 জিবি র্যামের (Ram) ফোনের মতও চলবে না।


যদি বিষয়টি এখনও আপনার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট না হয় তাহলে অন্য ভাবে আপনাকে বোঝাচ্ছি। যদি একটি ৫ তলা বিল্ডিং এর ছাদে ৫০০ লিটার এর একটি পানির ট্যাংক থাকে এবং এই ট্যাংক এর সাথে ৩ ইঞ্চি মোটা পাইপ লাগানো থাকে, 10 মিনিট সময় কতটুকু পানি ৫ তলা বিল্ডিং থেকে নিচে পরবে।

আবার যদি ঔ একই বিল্ডিং এর ছাদে ৬০ লিটার এর একটি ছোট পানির ট্যাংক থাকে এবং এই ট্যাংক এর সাথে যদি ২৫ ইঞ্চি মোটা পাইপ লাগানো থাকে, তাহলে একই সময়ে অর্থাৎ 10 মিনিট সময়ে একই উচ্চতা থেকে মানে ৫ তলা বিল্ডিং থেকে কতটা পানি নিচে পরবে।


আশা করি আপনি এখন বিষয়টি কিছুটা হলেও  ধারণা করতে পেরেছেন, পানির ট্যাংক এর সাইজ বড় হলেই হবে না নিচে পানি পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত মোটা পাইপের দরকার হবে, নাহলে ট্যাংক থেকে খুব সামান্য গতিতে পানি নিচে আসবে। ফলে ট্যাংক বড় হওয়া সত্ত্বেও আপনি খুব স্লো পানি পাবেন।

এর উল্টো দিকে যদি পানির ট্যাংক এর পরিমাণ অনেক ছোট হয় কিন্তু পাইপ এর সাইজ অনেক বড় হয় তাহলে কয়েক সেকেন্ড পর কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার পানির ট্যাংকের সব মোটা কয়েকটি নিচে পড়ে যাবে। এবং যতটা পানি আপনার প্রয়োজন ছিলনা তার থেকেও বেশি পানি নিচে চলে আসবে।


অর্থাৎ, মোবাইলের ক্ষেত্রেও আপনার ফোনের প্রসেসর ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ, র্যাম (Ram), রম (Rom) ব্যাটারি সবকিছুরই ভারসাম্য ঠিক থাকতে হবে। শুধু র্যাম (Ram), প্রসেসর ভালো থাকলেই ফোন ফাস্ট কাজ করবে এমনটা নয়। এগুলোর ভারসাম্য ঠিক থাকা অত্যন্ত জরুরী, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় র্যাম (Ram), প্রসেসর ভালো থাকার পাশাপাশি যদি ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ এর ভারসাম্য ঠিক থাকে তাহলে ফোন আরও দ্রুত কাজ করে। বিশেষ করে যারা হাই গ্রাফিক্সের এর গেমস খেলে অথবা অন্য কোন গ্রাফিক্স সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাদের ক্ষেত্রে ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ বেশি থাকলে বা ভারসাম্য অনুযায়ী থাকলে  ফোন ফাস্ট কাজ করে।


আর অবশ্যই ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ পানির ট্যাংক এবং পাইপ এর সাইজ এর মত ব্যতিক্রম থাকলে, অর্থাৎ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বা কম থাকলে ফোনের তেমন কোনো উপকার হবে না। আবার পরিমাণের চেয়ে কম থাকলে ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ সঠিক পরিমাণে যে মোবাইলটিতে রয়েছে সেটি চেয়ে তুলনামূলক স্লো কাজ করবে। প্রত্যেকটি বিষয়ের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হবে না হলে আপনি কখনোই ভালো সার্ভিস পাবেন না। 

ভালো মোবাইলের জন্য ভালো ব্যাটারি

বর্তমানে আমাদের অনেকেরই দীর্ঘসময় একটানা ফোন ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে অথবা কোন কাজের ক্ষেত্রে ঘন ঘন ফোনে চার্জ দেয়ার সময় পাই না। তাছাড়াও কয়েক ঘন্টা পর পর মোবাইলে চার্জ দেয়া এটা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর একটি কাজ। কিন্তু না চাওয়া সত্ত্বেও একদিন পূর্ণ হওয়ার আগেই অনেকের ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়।

সাধারণত বর্তমানে সকল স্মার্টফোনগুলো অ্যাপস এর সাইজ পূর্বের তুলনায় বেশি। কারণ সময়ের সাথে সাথে টেকনোলজির উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন উন্নত ফিচার অ্যাপসে যুক্ত করার কারনে অ্যান্ড্রয়েড বা যেকোন স্মার্টফোনের অ্যাপস গুলোর সাইজ বেশি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেকগুলো ব্যবহার করার কারণ আমাদের মোবাইলের র্যাম (Ram) রম (Rom) প্রসেসর গুলোর উপরে একটু বেশি প্রেসার পরে।

অন্যান্য পোষ্ট... জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২১

যদিও বর্তমানের ফোন কোম্পানি গুলো সব ফিচার গুলো বাড়তি দেয়ার পাশাপাশি ফোনে ব্যাটারি দিতে শুরু করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শক্তিশালী ব্যাটারি এয়ার সত্ত্বেও, কেন আমাদের মোবাইলে তুলনামুলক আরো বেশি থাকে না। এর কারণ হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষ এই ব্যাটারির mAh কত বা কি পরিমাণে আছে সেটা দেখেই কোন ক্রয় করে। ব্যাটারি-টির ধরন কি সেটা অনেকেই লক্ষ্য করে না বা জানে না, যে একই mAh এর ব্যাটারি পাওয়া সত্ত্বেও ব্যাটারি ধরণ আলাদা হওয়ার কারনে চার্জ কমবেশি থাকে।

কারণ Lithium-ion battery এর ব্যাটারি এবং Lithium polymer battery এর ব্যাটারি কখনো একরকম সার্ভিস দেবে না, কারণ এই দুটি ব্যাটারি ধরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন


আবার র্যাম (Ram), রম (Rom) প্রসেসর, ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ এর সঠিক ভারসাম্য না থাকলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। যদি সবগুলো হার্ডওয়্যার এর ভারসাম্য ঠিক থাকে আর শুধুমাত্র ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ কম থাকে তাহলেও ব্যাটারি চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তবে ডিসপ্লে রেজুলেশন হার্জ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাকলে তা কোনো কাজে আসবে না।

ভারসাম্যহীন হার্ডওয়্যার একটি মোবাইলে যদি 5000 mAh ব্যাটারি থাকে, আর সঠিক ভারসাম্যের একটি মোবাইলে 4000 mAh ব্যাটারি থাকে, তাহলে দুটি ফোনের ব্যাটারি প্রায় সমান পারফর্ম করবে। আশা করি ছোট এই উদাহরণের মাধ্যমে আপনাদের কাছে এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে পেরেছি

এন্ড্রয়েড ফোনের ভার্সন

স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভার্সন এরদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত, কারণ জেনারেশন অনুযায়ী ফোনের ভার্সন উন্নত করা হয়। আপনি যদি বর্তমানে ললিপপ বা জেলিবিন ভার্সন এর ফোন ব্যবহার করেন তাহলে আপনাকে কতটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে সেটা আপনি একবার ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন।

তাই আপ টু ডেট থাকার জন্য অবশ্যই বর্তমান সময়ে থাকা লেটেস্ট ভার্সনের ফোন ব্যবহার করতে হবে। তবে একদম আপডেট ভার্সনের অ্যান্ড্রয়েড iso ফাইলগুলো পূর্বের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনের তুলনায় কিছুটা ভারী। তাই আপনার ফোনের কনফিগারশন যদি কম হয় তাহলে একটি ভার্সন পিছিয়ে ফোন কিনতে পারে। তবে যদি এমন হয় যে আপনার ফোনের কনফিগারেশন অনুযায়ী বর্তমানের ফোনের ভার্সন চলতে আপনার হার্ডওয়ার এর উপরে কোন প্রেসার পড়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে ব্যবহার করতে পারেন।

কোন মোবাইল সবচেয়ে ভালো ২০২১ (শেষ কিছু কথা)

২০২১ সালে কোন মোবাইল সবচেয়ে ভালো আপনাদের আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের কয়েকটি মডেলের রিভিউ করে দিতে পারতাম। কিন্তু তাহলে আপনারা হয়তো ভালো ফোনের সাজেশন পেতেন কিন্তু ভালো ফোন কোনটি সেটি চিনতে পারতেন না বা আপনি নিজে ফোন কিনলে কোন কোন বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি বুঝতে পারতেন না।


এজন্য আমি আপনাদের কাছে মোবাইলের রিভিউ না করে ভালো ফেনের বৈশিষ্ট্য, ফোনের হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। যাতে আপনি যে বছর বা যে সালেই ফোন কিনতে চান বাজেট অনুযায়ী আপনার জন্য সেরা ফোনটি কিনতে পারবেন।

টেকনোলজি টিপস সংক্রান্ত নানা রকম তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন এবং কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url